আপনি জেনে অবাক হবেন এক অবাস্তব ঘটনার কথা শুনে যা ইন্টারনেটের একটি ঘটনা৷ ঘটনাটি হল ইন্টারনেটে দেখাচ্ছে যে
একটি ছোট্টো শিশু পোষা দুটি রাজহাঁসের সঙ্গে বসে আছে শুধু যে বসে আছে তাই নয়৷ মজার কথা হল শিশুটিও ওই রাজহাঁস দুটির মতোই একই আকৃতিতে বসে আছে, দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে যেন পর পর তিনটি রাজহাঁস বসে আছে৷ এ তো রাজহাঁস হল কিন্তু শিশুটি যে একেবারেরই রাজহাঁসের নকল করছে৷ এমন ঘট দেখে তো হাসি পাওয়ারই কথা৷ কারন তার বাড়ীতে তিনটি পালিত কুকুরও রয়েছে ভবিষ্যতে হয়তো সে সেই কুকুরগুলোর মতো ঘেউ ঘেউ করে ডাকতে না শুরু করে দেয়৷ যাই হোক না কেন এ তো গেল হাসি মজার কথা৷ কিন্তু এই মজার মধ্যেও এতটা সত্য লুকিয়ে আছে যে বড়দের ভাষা, হাব-ভাবই নয় আচরণ ও ব্যবহারও সবই শিশুদের
প্রভাবিত করে৷ বাচ্চারা যখন " রান্নবাটি " খেলে তখন মায়ের শাড়ি পড়ে, শিক্ষকের চশমা পড়ে একইরকম নকল করার চেষ্টা করে৷ যা তারা বড়দের দেখে শেখে তাহাই করার চেষ্টা করে৷ যে সকল ঘরে গৃহযুদ্ধ চলে সেই সকল ঘরের বাচ্চারা নকল বন্দুক বানিয়ে খেলা করতে থাকে৷ বেশ কিছুদিন আগের ঘটনা মণিপুরের একটি ঘর থেকে খেলার বন্দুক ফেলে দেওয়া হয়েছে৷ কারণ তাদের মধ্যে একটি বাচ্চা আতঙ্কবাদী ও অন্যজন বাচ্চা সুরক্ষাকর্মী হওয়ার নকল করে খেলা করত৷ তবে ভেবে দেখুন কতটা প্রভাব ফেলছে বর্তমানে বাচ্চাদের উপরে৷
হলিউডের একজন অভিনেত্রী গর্ভবতী হয়েছেন৷ সারাবিশ্বের মিডিয়ার কাছে এঅটি প্রচারের একটি বড় বিষয় হয়ে উঠেছে৷
অভিনেত্রী নিজেও এই তথ্য বিষয়ের প্রচার করে ভীষণ আনন্দ উপভোগ করেন৷ যখন আশেপাশের জনসাধারণের কাছে মহান
ঘটনা তখন অভিনেত্রীর ছোট্টো শিশুটির উপরে যে এর প্রভাব পরবে না তা কি করে সম্ভব? আর ছোট্টো শিশু সর্বাধিক
প্রভাবিত হয় তার পালনকর্তা, ও শিক্ষকের কাছ থেকে গ্রহণ করে৷ তাঁরাই তার কাছে " রোল মডেল " হয়৷ শিশুদের উপর
মা-বাবা ও খুবই কাছের মানুষের প্রভাব এত বেশী বিস্তার করে যে তা ধারণার বাইরে, হুবহু তাদের নকল করে শিশুরা৷
আসল কথা যেমন ভাবী সমাজ আমরা চাইছি, ঠিক তেমনই সমাজ আমাদের নিজেদেরই তৈরি করতে হবে৷ ভবিষ্যতের
বাচ্চাদের কাছে আমরা যা আশা করছি তার জন্য নিজেদের তৈরি করতে হবে, নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে৷ যেমন-পিতা
তাঁর শিশুকে শিক্ষা দিচ্ছেন যে পাঠ্যক্রমে লেখা আছে ঘুষ নেওয়া সামাজিক অপরাধ৷ কিন্তু তিনিই অন্যজনের কাছ থেকে ঘুষ
নিচ্ছেন৷ আর মনে মনে ভাবছেন যে, বাচ্চা ভ্রষ্টাচার দেখার পরেও সুস্থ সমাজ তৈরি করুক আর বাবা-মাকে সম্মান করুক ও
একন কোনও অপরাধ বা ভ্রষ্টাচার না করুক৷ তা কখনওই সম্ভব নয়৷ আপনারাই ভেবে দেখুন না যে এমন কি কখনও সম্ভব
হতে পারে৷ ছোট্টো শিশুদের সামনে যেমন সম্মানের অলঙ্কার তৈরি করবেন তা দেখে তারা তেমনই অলঙ্কার তৈরি করবে৷ ঠিক
তেমনই সম্মান পিতা-মাতাও পাবেন৷ সুন্দর সুস্থ সমাজের শিশু তৈরি করতে হলে প্রথমে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে৷ এ
বিষয়ে আপনারা কি ভাবছেন অবশ্যই আমাকে জানাবেন৷
গীতা কৈরী

লোড হচ্ছে...