রাজা ভিখারী...!
রাজা ভিখারী...!
ছোটোবেলায় একটি ইঁদুরের কবিতা পড়েছিলাম, সেই কবিতার মধ্যে ইঁদুর রাজাকে খোঁটা দিয়ে বলছে, " রাজা ভিক্ষারী আমার টুপি নিয়ে নিয়েছে ৷" কিন্তু বর্তমানের নতুন যুগে কিছু রাজা তো ভিক্ষারী হওয়ার বেশ প্রচলিত হয়েছে৷ কারণ তাদের মধ্যে নতুন যুগের ভিক্ষারী হওয়ার শখ চড়েছে৷ শৌখিন ভিক্ষারী সাজার জন্য প্রতিদিন তিন হাজার ডলার অর্থাত প্রায় সওয়া লক্ষ টাকা করে৷ "ডিলাক্স ডেপ্রিভেশন " অর্থাত বিলাসীতার কোনও একটি এজেন্সি পয়সা নিয়ে তাদের জন্য ছেঁড়া-ফাঁটা কাপড়, ভিক্ষার থালার ব্যবস্থা করে দেয়৷ হ্যাঁ আরও তাদের ভিক্ষার জন্য গলির আনাচে কানাচে ভিক্ষার জায়গারও ব্যবস্থা করে দেয়৷ রাশিয়ার কোনও একজন আরবপতি মস্কোর গলিতে গলিতে ভিক্ষারীপানার আনন্দ উপভোগ করতে করতে সহর্ষে ঘুরে বেড়াচ্ছে৷
এ তো গেল রাশিয়ার কথা, দুনিয়ার অনেক জায়গায়, যেমন বিকশিত দেশেগুলোতে "ডিলাক্স ডেপ্রিভেশন স্প" খুলে গেছে সেখানে লোকে পয়সা দিয়ে নিজেকে কষ্ট দেয়৷ বরফের হোটেলে গিয়ে কাঁপুনি থেকে শুরু করে, ইসলাম এরিয়ায় গিয়ে ঝুপড়ির মধ্যে রাত্রি কাটিয়ে কষ্ট করে সময় ব্যতিত করে৷ বডি এবং শোল স্প-তে বড় বড় ধনী ব্যক্তিরা ফিটনেস ভ্যাকেশনে যায়৷ সেখানে গিয়ে নতুন পদ্ধতিতে ম্যাসাজ বা ফেশিয়াল কিছুই করায় না৷ বরং পুরানো যুগের মতো খালি পায়ে পথ চলে, এমন কি পায়ের তলায় ঝলষে যায় এমন পাহাড়ী পথ তারা চলেন৷ অতিবিলাসী ও ব্যস্ত জীবন, প্রতিদিনের পার্টি থেকে অতিষ্ট হয়ে তারা এমন পদ্ধতি অবলম্বন করছে৷ বিলাসীতার জীবন থেকে এনারা প্রতাড়িত হচ্ছেন৷ তাই এমন ভিক্ষারীর বেশে মনের আনন্দ খুঁজে পাওয়ার জন্য স্পেশাল বডি এন্ড শোল স্প এর সান্নিধ্যে আসছেন৷ শুধু শরীরের ফিটনেস বা ডায়াটিং বা ব্যায়ামের জন্য নয়, এরা তো অজানা অবস্থাতেই " শ্বেত কণা" খুঁজতে চলেছে৷
এই ধনী ব্যক্তিরা মনে করেন যে, সংঘর্ষময় ছুটি কাটানো তাদের কাছে এক গরীবের জীবনের অস্তিত্ব মনে করিয়ে দেয়৷ এতটাই সুখ ব্যক্তিগত জীবনে যে তারা এই সুখের বস্ত্র ত্যাগ করে ভিক্ষারী জীবনের স্বাদ গ্রহন করে ঘুরে বেড়ায়৷ এখ্ন এটাই ফ্যাশান হয়েছে বিদেশীদের কাছে৷ কিছু কিছু ডিলাক্স ডেপ্রিভেশন প্রেমীরা মনে করেন যে নিজেকে একটু কষ্টসহিষ্ণু করলে মনের জোর আরও বেড়ে যায়৷ মানসিকতার পরিবর্তন আসে৷ আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়৷ কিছু ধনী আছে যারা শুধু নিজেদের মধ্যে পরিবর্তন আনার জন্যই ভিক্ষারী জীবন উপভোগ করে৷ আবার কিছু ধনী মনে করেন যে জীবনে অনেক অর্থ উপার্জন করেছে এবার তাদের খরচ করার পালা তাই তারা এমন করে অর্থ ব্যয় করে মনের সুখ অনুভব করে৷
যা কিছুই হোক না কেন, আসল কথা হল জীবনের সবথেকে বড় আনন্দ হল, দু:খ-কষ্ট, পরিশ্রম, সংঘর্ষ৷ যখন আপনার হাতের কাছে না চাইতেই সব সুখ-সুবিধা এসে হাজির হয়, হাত-পা নাড়াবার প্রয়োজন হয় না, তখনই আপনার সব সুখের মধ্যে দিয়েও চোখের ঘুম উড়ে যায়৷ কিন্তু এই ধনী ব্যক্তিরা যে কৃত্বিম উপায়ে এর উপচার চাইছে তা কি সম্ভব? আত্মা কি তা চায়? কারন আমাদের শোল সিন্থেটিক নয়৷ যদি এই ধনী ব্যক্তিরা সত্য সত্যই আত্মার তুষ্টি চায় তাহলে জনকল্যানের জন্য যোজনা তথা কিছুটা অমুল্য সময় ব্যয় করুক৷ তবেই যদি আত্মায় সন্তুষ্টি পাওয়া যায়৷ বিশ্বের এমন অনেক ধনী ব্যক্তি আছে যারা এমন ধরনের ফাউন্ডেশন পরিচালনা করছে৷
লোড হচ্ছে...