যদিও বা সব ধরণের দানকেই মহান দান বলে গণ্য করা হয়৷ কিন্তু রক্তদান সবথেকে মহান এবং পূর্ণের কাজ৷ কারণ এতে কারও প্রাণের রক্ষা হয়৷ জীবন ফিরে পায়৷
রক্তের প্রয়োজনীয়তা অনেক কারণেই হতে পারে, যেমন মহিলাদের ঋতুচক্রের অনেক সময়ে অতিরিক্ত রক্ত বাহিত হয়ে
যায় সেই সময়েও রক্তের প্রয়োজন হয়৷ সন্তান প্রসবের সময়েও অনেক রক্ত বাহিত হয়ে যায় তখনও রক্তের প্রয়োজন হয়৷ খাদ্যের অভাবেও রক্তাল্পতা দেখা দেয় তখনও রক্তের প্রয়োজন হয়৷ যার কারণে গর্ভাবস্থায় রক্তাল্পতার কারণে মায়ের গর্ভের শিশু ও মা দুজনেরই ক্ষতি হতে পারে৷ একে অ্যানিমিয়া বলে৷সূর্ঘটনার কারণে অধিক রক্ত বাহিত হওয়ার কারণে শরীরে রক্তাল্পতা হয়ে যায় তখনও রক্তের প্রয়োজন হয়৷ সেই সময়ের মধ্যেই রক্ত শরীরে দেওয়ার জরুরী হয়ে পড়ে৷ যা অবশ্যই সম্পূর্ণ করার প্রয়োজন তাতে তাঁর জীবন রক্ষা পাবে৷ আবার এমন হয় যে অনেকক্ষণ অপারেশন চলার কারণে অতিরিক্ত রক্ত বাহিত হয়ে যায় তখনও রক্তের প্রয়োজন হয়৷
এমন অনেক অসুখ রয়েছে যাতে রক্ত সম্পূর্ণ তৈরি হতে পারে না, যদিও বা রক্ত তৈরি হয় তা লোহিত কোণিকার জন্য
সময়ের আগেই নষ্ট হয়ে যায়৷ এতে ভয়ঙ্কর অসুখ দেখা দেয়, যেমন ব্লাড ক্যান্সার৷ এই অসুখের জন্য রক্ত পরিবর্তন করতে হয় ঘন ঘন৷ তারজন্য প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হয়৷ যথারীতি সপ্তাহে একবার অবশ্যই রক্ত দিতে লাগে শরীরে৷ এইসকল কারণের জন্য শরীরে রক্তাল্পতা দেখা দেয়৷ যা রক্তদান করেই পূর্ণ করা যেতে পারে৷ রক্ত এমন বস্তু যা শুধু শরীরের ভীতরেই উত্পন্ন হয়৷ আর মানুষকে মানুষই রক্তদান করতে পারে৷ এর কোনও বিকল্প নেই৷ আমরা রক্তদান করে জীবন দান করতে পারি৷
থ্যালাসেমিয়ার মতো ভয়ানক রোগের জন্য প্রচুর পরিমানে রক্তের প্রয়োজন হয়৷ যা আমরা সুস্থ মানুষরাই পূর্ণ করতে পারি৷
রক্তদান করলে স্বাস্থ্য বা শরীরের কোনও হানী হয় না৷ কমকরে একসপ্তাহের মধ্যেই ঐ রক্ত শরীরে পুনরায় উত্পন্ন হয়ে যায়৷ যেকোনও সুস্থ মানুষই রক্তদান করতে পারেন৷ 17-55 বছর বয়স পর্যন্ত যারা তারাই রক্ত দিতে পারেন৷ অবঅশ্যই যদি আপনি শারীরিক দিক থেকে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ তবেই আপনি রক্তদান করবেন৷ মহিলারাও রক্তদান করতে পারেন৷ যদি তাঁদের শরীরে রক্তের পরিমান পর্যাপ্ত থাকে তাহলে অবশ্যই দিতে পারেন৷
A, B, AB, O রক্তকে এই চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে৷ একই গ্রুপের রক্ত একে অন্যের শরীরে দেওয়া যেতে পারে৷ অন্য গ্রুপের রক্ত অনেক সময় বিপজ্জনক হতে পারে৷
এই প্রকার সুবিধার জন্য ব্লাড ব্যাঙ্ক রয়েছে৷ সেখানে বিভিন্ন গ্রুপের রক্ত পাওয়া যায় বা জমা করা হয়ে থাকে৷যে ব্যক্তি রক্ত দান করেন রক্তের বোতলের উপরে তাঁর নাম ও ব্লাড গ্রুপের নাম লেখা থাকে৷ রক্তের গ্রুপ ম্যাচ করলে তবেই রোগীর শরীরে রক্ত দেওয়া হয়৷
সুতরাং আর ভয় কেন এগিয়ে আসুন রক্তদান করুন জীবন দান করুন৷

লোড হচ্ছে...